সগর রাজার কথা
ইক্ষবাকু বংশে সগর নামে একজন অতি প্রসিদ্ধ রাজা ছিলেন। বীরত্বে তাঁহার সমান আর সেকালে কোন রাজাই ছিলেন না। রূপে, গুণে, বিদ্যায়, সব বিষয়েই তিনি সুখী ছিলেন, কেবল এক বিষয়ে তাঁহার বড়ই দুঃখ ছিল, তাঁহার পুত্র ছিল না। পুত্র-লাভের জন্য তিনি তাঁহার বৈদর্ভী এবং শৈব্যা নাম্নী দুই রানীকে লইয়া কৈলাস পর্বতে গিয়া কঠিন তপস্যা আরম্ভ করিলেন। কিছুদিন পরে শিব রাজার তপস্যায় ভুষ্ট হইয়া তাঁহার নিকট আসিয়া বলিলেন, ‘মহারাজ, তুমি কী চাও?’
রাজা ভক্তিভরে শিবকে প্রণাম করিয়া জোড়হাতে বলিলেন, ‘ভগবান, আমার পুত্র নাই। আমার মৃত্যুর পর আমার বিশাল সাম্রাজ্য ভোগ করিবার লোক থাকিবে না, আমার বংশ লোপ হইয়া যাইবে। সুতরাং যদি আমার প্রতি আপনার দয়া হইয়া থাকে, তবে অনুগ্রহ করিয়া যাহাতে আমার পুত্র হয় এমন বর দিন।’
শিব কহিলেন, ‘মহারাজ, তোমার এক রানীর ষাট হাজার পুত্র হইবে, কিন্তু তাহারা সকলেই একসঙ্গে মরিয়া যাইবে। আর এক রানীর একটি পুত্র হইবে, সে-ই তোমার বংশ রক্ষা করিবে।’
এই বলিয়া শিব আকাশে মিলাইয়া গেলেন, রাজাও আনন্দের সহিত রানীদিগকে লইয়া দেশে ফিরিলেন।
কিছুদিন পরে বৈদর্ভীর ষাট হাজারটি আর শৈব্যার একটি পুত্র হইল। বৈদভীর ষাট হাজার পুত্র জন্মিবার সময় বড়ই আশ্চর্য ঘটনা হয়। ছেলেগুলি একটা লাউয়ের ভিতরে ছিল। লাউ দেখিয়া রাজা তাহা ফেলিয়া দিবার আজ্ঞা দিয়াছেন, এমন সময় আকাশ হইতে কে যেন অতি গম্ভীর স্বরে বলিল, ‘মহারাজ, ওটাকে ফেলিয়া দিও না। উহার ভিতরেই তোমার ষাট হাজার পুত্র আছে। উহার ষাট হাজারটি বীচিকে ঘৃতের কলসীর ভিতরে রাখিয়া দাও, দেখিবে, তোমার ষাট হাজার পুত্র হইবে।’
সুতরাং রাজা আর লাউটি ফেলিয়া না দিয়া উহার বীচিগুলি ঘিয়ের ভিতরে রাখিয়া দিলেন। ইহাতে অনেকদিন পরে সেই বীচির ভিতর হইতে ষাট হাজারটি সুন্দর খোকা বাহির হইল। সেই খোকাগুলি বড় হইয়া ষাট হাজারটা অসুরের মতন গোঁয়ার গুণ্ডা হইল। তাহাদের জালায় মানুষের কথা আর কী বলিব—দেবতা গন্ধর্ব পর্যন্ত সুস্থির হইয়া বসিতে পারিত না।
শেষে সকলে তাহাদের দৌরাত্ম্যে জালাতন হইয়া ব্রহ্মার নিকট গিয়া বলিল, ‘ভগবান, আর তো পারি না। ইহাদের দৌরাত্ম্য নিবারণের একটা উপায় করুন।’
ব্রহ্মা বলিলেন, ‘তোমাদের কোন চিন্তা নাই, আর অতি অল্পদিনের ভিতরেই ইহারা নিজেদের স্বভাব-দোষে নষ্ট হইবে।’
এ কথায় সকলে কতকটা নিশ্চিত হইয়া, ব্রহ্মাকে প্রণামপূর্বক যে যাহার ঘরে ফিরিল।
তারপর একবার সগর অশ্বমেধ যজ্ঞ আরম্ভ করিলেন। যজ্ঞের ঘোড়ার রক্ষক হইল ঐ ষাট হাজার রাজপুত্র। তাহারা দিনকতক তাহাকে দেশে দেশে তাড়াইয়া ফিরিলে সে শুকনো সাগরের বালির উপর দিয়া ছুটিতে ছুটিতে হঠাৎ কোথায় যে চলিয়া গেল, রাজপুত্রেরা তাহার কিছুই বুঝিতে পারিল না। তখন তাহারা দেশে ফিরিয়া তাহাদের পিতাকে বলিল যে, ‘বাবা, সর্বনাশ হইয়াছে, ঘোড়া হারাইয়া গিয়াছে।’
এ কথা শুনিয়া সগর বলিলেন, ‘তোমরা সকলে মিলিয়া তাহাকে খুব ভাল করিয়া খোঁজ।’
তখন রাজপুত্রেরা আবার ঘোড়া খুঁজিতে বাহির হইল, কিন্তু সমস্ত পৃথিবী খুঁজিয়াও তাহার সন্ধান করিতে পারিল না। সুতরাং তাহারা আবার তাহাদের পিতার নিকট আসিয়া বিনয়ের সহিত বলিল, ‘বাবা, আমরা শহর, বাজার, পাহাড়, পর্বত, বন, বাদাড় কিছুই বাকি রাখি নাই। কিন্তু ঘোড়া তো কোথাও খুঁজিয়া পাইলাম না।’
এ কথায় সগর রাগে অস্থির হইয়া বলিলেন, ‘দূর হ তোরা এখান হইতে! ঘোড়া না লইয়া তোরা আর দেশে মুখ দেখাইতে পারিবি না!’
সুতরাং আবার ষাট হাজার ভাই ঘোড়ার সন্ধানে বাহির হইল। খুঁজিতে খুঁজিতে তাহারা আবার সমুদ্রের ধারে উপস্থিত হইয়া দেখিল যে, তাহার এক-জায়গায় একটা গভীর গর্ত রহিয়াছে। তখন ষাট হাজার ভাই ষাট হাজার কোদাল লইয়া সেই গর্তের চারিধার খুঁড়িতে আরম্ভ করিল। কিন্তু অনেক
লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
এক বছর
এক মাস
রেজিস্ট্রেশন করা নেই? রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিন বিনামূল্যে ব্যবহার করুন
যোগাযোগ করতে
Leave A Comment
Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Comments